ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষ্মণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা  (sympoms of brain stroke)



Photo by <a href="https://unsplash.com/@natcon773?utm_source=unsplash&utm_medium=referral&utm_content=creditCopyText">Natasha Connell</a> on <a href="https://unsplash.com/s/photos/brain-stroke?utm_source=unsplash&utm_medium=referral&utm_content=creditCopyText">Unsplash</a>





ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষ্মণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা  (sympoms of brain stroke)

আস সালামু আলাইকুম, আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করবো ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ লক্ষন ও প্রতিকার চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে -

গবেষণায় জানা গেছে সারাবিশ্বে প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজন লোক ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকে আমাদের দেশে ও এই রোগে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। 



আজকে আমরা যা জানবো - 

  • ব্রেইন স্ট্রোক কি ?  
  • ব্রেইন স্ট্রোক কত প্রকার? 
  • ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ? 
  • ব্রেইন স্ট্রোক এর লক্ষ্মণ গুলো কি? 
  • চিকিৎসা কী?  


ব্রেইন স্ট্রোক - আমাদের মস্তিষ্কে রক্তের মাধ্যমে অবিরাম গ্লুকোজ ও অক্সিজেন সরবরাহ হতে থাকে যদি কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায় তাহলে মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে ফলে পুরো শরীর অবস হয়ে আসে। মস্তিষ্কের এই কোষ গুলো মারা যাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ব্যঘাত ঘটে ফলে রোগী পাগল বা মারা যেতে পারে আর একেই বলে ব্রেইন স্ট্রোক। 



স্ট্রোকের লক্ষ্মণ 

  • শরীরের একপাশে বা কোনো অংশে অবশ হওয়া 
  • কথা বলতে সমস্যা বা কথায় জড়তা 
  • চোখে ঝাপসা বা একটি জিনিস কে দুইটি দেখা 
  • শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারা
  • হঠাৎ মাথা ব্যথা হওয়া 
  • ঢোক গিলতে সমস্যা 
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া 
  • ঘুম ঘুম ভাব হওয়া 

১. আপনার যদি মনে হয় ব্যক্তিটির স্ট্রোক হতে পারে তাহলে ব্যক্তিকে হাসতে বলুন, যদি হাসির সময় ঠোঁট ঝুলে যায়, মুখটা বেঁকে যায় তাহলে বুঝতে হবে ব্যক্তিটির স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। 

২. মানুষটিকে কথা বলতে বলুন, যেমন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এটি বলতে গিয়ে যদি কথা জরিয়ে যায় বা কথা বলতে সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে স্ট্রোকের সমস্যা হয়েছে। 


৩. মানুষটিকে তার দুটো হাত সোজা করে উপরে তুলতে বলুন যদি হাত উপরে ওঠাতে কষ্ট হয় তাহলে বুঝতে হবে স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে কারণ স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকলে একসাইড অবস অনুভত হয়। 

উপরের তিনটি উপসর্গ যদি আপনার সামনে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিটির মধ্যে দেখেন তাহলে যতো তারাতাড়ি সম্ভব তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। 

তাহলে কি করতে হবে - Smile,Talk এবং Raise Hand. 



ব্রেইন স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে 

  1.  ইসমেচিক স্ট্রোক - আন্ধলিক ভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ
  2. হেমোরেজিক স্ট্রোক - মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ 



1   ইসমেচিক স্ট্রোক বা আঞ্চলিক ভাবে রক্ত চলাচলের বাধা বলতে দেহের মধ্যে দিয়ে রক্ত প্রবাহের সময় যদি কোথাও রক্ত জমাট বেধে যায় এবং রক্ত যদি ব্রেইনে পৌঁছাতে না পারে তাহলে যেই স্ট্রোক হয় তাকে ইচমেচিক স্ট্রোক বলে। 


2.  হেমোরেজিক স্ট্রোক - মস্তিষ্কের ভেতরে দূর্বল কোনো রক্ত নালী ফেটে গেলে সেখান থেকে রক্ত মস্তিষ্কের আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে এর কারণে যে স্ট্রোক হয় তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে। 


স্ট্রোকের কারণ সমূহ - গবেষণায় দেখা যায় বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে 

  • . ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষ 
  • . উচ্চ রক্তচাপ 
  • . অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা 
  • . হৃদ রোগে
  • . ডায়াবেটিস বা বহু মূত্র 
  • .রক্তে কলেস্টেরল বেড়ে গেলে 
  • . ধুমপান / তামাক/ মাদক / জর্দা / অতিরিক্ত কোমল পানিয় পান 
  • . জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করলে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। 



প্রাথমিক ভাবে করনীয়  সমূহ - 

১. শ্বাস বন্ধ হলে মুখে শ্বাস দেওয়া

২. বমি হলে মাথা একদিকে কাত করে রাখা 

৩. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কিছু না খাওয়ানো 


পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা হলেই রোগী কে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে । ডাক্তারের কাছে নিয়ে রোগীর চিকিৎসা -


প্রথমেই পরিক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে হবে এটি কোন ধরনের স্ট্রোক। তারপর ডাক্তার সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিবেন। 



অনেক সময় স্ট্রোকের রোগী বেচ যান আবার অনেকে মারা ও যান স্ট্রোকের পরে রোগী বেচে থাকলে ও অনেক সময় পঙ্গুত্ব নিয়ে বাচেন। এই ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত -

প্রতিরোধের উপায়সমূহ -

১. রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কি বা মাঝে মাঝে পরিক্ষা করবো 

২. রক্তে কলেস্টেরল যেনো বাড়তে না পারে সেইজন্য অতিরিক্ত তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করবো

৩.আমাদের ডায়াবেটিস থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না পরিক্ষা করবো 

৪. ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবো 

৫. যেকোনো পরিস্থিতিতে মানসিক ভাবে দূর্বল হওয়া যাবে না, মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করবো। 

৬. ধুপমান ও মাদক অবশ্যই পরিহার করবো কোমল পানিয় পান না করলেই ভালো। 


আমাদের সচেতনতায় আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, আমাদের অসচেতনার জন্যই আমরা নানা ধরনের বিপদে পরি। চলুন স্বাস্হ্য সম্পর্কে সচেতন হই। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি এমন সব কিছু যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলি। 

Good health bring Happiness. 




ব্রেইন স্ট্রোকের চিকিৎসা,

ব্রেইন স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা,

ব্রেইন স্ট্রোকের ঔষধ,

ব্রেইন স্ট্রোক এর লক্ষণ,

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়,

ব্রেইন স্ট্রোক হলে করনীয়,



Post a Comment

Previous Post Next Post